পোস্টগুলি

অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার প্রসঙ্গে (বিজ্ঞান ও কুরআন সুন্নাহর আলোকে)

ছবি
  এই আর্টিকেলে যা যা থাকছে: • সাধারণ সময়ে চুল ও নখ কাটা   • কখন কাটা উচিত? • সময়সীমা  • পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য  • ফিতরাত (স্বাভাবিক প্রকৃতি): • পদ্ধতি: • ব্যখ্যা ও বিধান  • বিজ্ঞানের আলোকে স্বাস্থ্যবিধি  • কুরবানীর সময়ে চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকা • চল্লিশ দিনের পর অবাঞ্ছিত লোম না কাটলে কি গুনাহ হবে? • আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে হাদিসের ব্যাখ্যা। • উপসংহার   ইসলামে অবাঞ্ছিত চুল ও নখ কাটার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে, যা হাদিস দ্বারা সমর্থিত। এর মধ্যে কিছু সাধারণ পরিচ্ছন্নতার অংশ এবং কিছু নির্দিষ্ট সময়ে পালনীয় বিধান। সাধারণ সময়ে চুল ও নখ কাটা ইসলামে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। অবাঞ্ছিত চুল ও নখ কাটা এই পরিচ্ছন্নতারই অংশ। এই বিষয়ে কিছু হাদিস নিচে উল্লেখ করা হলো: হাদিস: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْفِطْرَةُ خَمْسٌ الْخِتَانُ وَالِاسْتِحْدَادُ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ وَنَتْفُ الْإِبِطِ হাদিস (বাংলা অর্থ): আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি...

নিজের বিরুদ্ধে গেলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কর।

ছবি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ ۚ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَا ۖ فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَىٰ أَنْ تَعْدِلُوا ۚ وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا﴾ সূরা ও আয়াত নম্বর:  * সূরা: আন-নিসা  * আয়াত নম্বর: ১৩৫ আয়াতের আনুমানিক অর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসেবে, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে অথবা পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়। যদি সে ধনী হয় বা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ উভয়েরই অধিকতর অভিভাবক। সুতরাং তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যেন তোমরা ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত না হও। আর যদি তোমরা বাক্যকে বিকৃত করো অথবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে তোমরা যা কিছু করো, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।" আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীর: এই মহিমান্বিত আয়াতটি মুমিনদেরকে তাদের সকল বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেয় এবং আ...

জাতি সংঘের মানবাধিকার কার্যালয় অনুমোদন ও মুসলিম উম্মাহর প্রতিক্রিয়া।

ছবি
 বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিম উম্মাহর প্রতিক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত বিষয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) ঢাকায় স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। গত ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য এই কার্যালয় স্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নবায়নের সুযোগ থাকবে। সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ছয় মাসের নোটিশে সরকার যেকোনো সময় এই কার্যালয় প্রত্যাহার করতে পারবে। এই কার্যালয় স্থাপনের ফলে জাতিসংঘ বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থাকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে পারবে এবং মানবাধিকার বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রু...

জাতি সংঘের মানবাধিকার বনাম ইসলাম ও জঙ্গিবাদ (প্রশ্ন+উঃ+Ai)

ছবি
  আপনার কথা যদি সত্যি হয়, আফগানিস্তানের তালেবানদেরকে পশ্চিমারা জঙ্গি বলত এখন ও বলে তার কারণ কি? আপনার প্রশ্নটি খুবই প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম শান্তির ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমারা কেন তালেবানদের 'জঙ্গি' বা 'জিহাদি' বলে আখ্যায়িত করে, এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যা তাদের আদর্শ, কার্যক্রম এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের সাথে জড়িত। এখানে কিছু প্রধান কারণ তুলে ধরা হলো:  * তালেবানের কঠোর শরিয়া আইনের প্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন: তালেবান তাদের শাসনামলে (১৯৯৬-২০০১ এবং বর্তমানে) শরিয়া আইনের একটি কঠোর ও নিজস্ব ব্যাখ্যা প্রয়োগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:    * নারীদের অধিকার সীমিতকরণ: নারীদের শিক্ষা, কাজ এবং চলাফেরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাদের প্রকাশ্যে বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।    * প্রকাশ্যে শাস্তি: ব্যভিচারের জন্য পাথর ছুঁড়ে হত্যা, চুরির জন্য অঙ্গহানি, এবং খুনের জন্য প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।    * সংস্কৃতি ও বিনোদনে নিষেধাজ্ঞা: সঙ্গীত, চল...

জঙ্গিদের মাধ্যমে প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা কি সম্ভব?

ছবি
এই আর্টিকেলে যা যা থাকছে :- ১- জঙ্গিবাদ শব্দের উৎপত্তি  ২- ইসলাম ও জঙ্গিবাদ  ৩- জঙ্গিবাদ শব্দের অপপ্রয়োগ  ৫- বিভ্রান্ত গোষ্ঠী:  জঙ্গিবাদ একটি জটিল ও বহুমাত্রিক ধারণা, যা প্রায়শই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। এটি শুধু একটি একক কারণ বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জঙ্গিবাদ শব্দের উৎপত্তি 'জঙ্গিবাদ' শব্দটি এসেছে ফারসি 'জঙ্গ' থেকে, যার অর্থ যুদ্ধ বা লড়াই। সে হিসেবে 'জঙ্গি' অর্থ হলো যোদ্ধা বা লড়াকু। ঐতিহাসিকভাবে, এই শব্দটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হতো না। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে যুদ্ধবিষয়ক কাব্যকে 'জঙ্গনামা' বলা হতো, যা কারবালার যুদ্ধ নিয়ে রচিত হয়েছিল। এই অর্থে 'জঙ্গ' শব্দের সাথে ইসলামের ইতিহাসের একটি সাহিত্যিক যোগসূত্র স্থাপিত হয়। তবে, বর্তমানে 'জঙ্গিবাদ' বলতে এমন একটি ইসলামী গোষ্ঠীকে বোঝানো হয় যারা যুদ্ধ বা পবিত্র জিহাদের মাধ্যমে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যেটাকে পশ্চিমারা  সন্ত্রাসবাদ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। ইসলাম ও জঙ্গিবাদ ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। ইসলামে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা, ত্রাস সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।...

কমপক্ষে কত সূরা উচ্চারণ সহ শিখতে হবে?

ছবি
  এই আর্টিকেলে যা যা রয়েছে - ১. কমপক্ষে কত সূরা উচ্চারণ সহ মুখস্থ করতে হবে? ২. কোরআন পাঠককে কেন কোরআন অভিশাপ দেয়? ৩. গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা  প্রিয় পাঠক! সালাত আদায়ের জন্য অন্তত সূরা ফাতিহা এবং আরও কয়েকটি ছোট সূরা (যেমন সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা কাউসার ইত্যাদি) উচ্চারণ সহ শেখা জরুরি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহজ কুরআন শিক্ষা কর্মসূচীতেও সূরা ফাতিহাসহ নির্বাচিত ১০টি সূরা মুখস্থ বলার কথা উল্লেখ আছে। কেননা, নামাজের প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ, আর এর সাথে অন্য একটি সূরা বা সূরার কিছু অংশ পড়া ওয়াজিব। তাই নামাজের বিশুদ্ধতার জন্য এই সূরাগুলো শুদ্ধ উচ্চারণে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, কোরআন শেখার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যক সূরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কোরআন শিখে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।" (সহীহ বুখারী) তাই যত বেশি সম্ভব সূরা এবং কোরআনের আয়াত শুদ্ধ উচ্চারণে শেখার চেষ্টা করা উচিত। মনে রাখবেন, কুরআনের আয়াতের উচ্চারণ অন্য ভাষায় করা সম্ভব নয় এবং অনেক উলামার মতে তা বৈধও নয়। তাই বাংলা উচ্চারণ...

কেন কোরআনের উচ্চারণ শিখতে হবে?

ছবি
এই আর্টিকেলে যা যা রয়েছে - ১ . অর্থ বিকৃতি রোধ