কমপক্ষে কত সূরা উচ্চারণ সহ শিখতে হবে?
এই আর্টিকেলে যা যা রয়েছে -
১. কমপক্ষে কত সূরা উচ্চারণ সহ মুখস্থ করতে হবে?
২. কোরআন পাঠককে কেন কোরআন অভিশাপ দেয়?
৩. গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
প্রিয় পাঠক!
সালাত আদায়ের জন্য অন্তত সূরা ফাতিহা এবং আরও কয়েকটি ছোট সূরা (যেমন সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা কাউসার ইত্যাদি) উচ্চারণ সহ শেখা জরুরি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহজ কুরআন শিক্ষা কর্মসূচীতেও সূরা ফাতিহাসহ নির্বাচিত ১০টি সূরা মুখস্থ বলার কথা উল্লেখ আছে।
কেননা, নামাজের প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ, আর এর সাথে অন্য একটি সূরা বা সূরার কিছু অংশ পড়া ওয়াজিব। তাই নামাজের বিশুদ্ধতার জন্য এই সূরাগুলো শুদ্ধ উচ্চারণে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে, কোরআন শেখার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যক সূরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কোরআন শিখে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।" (সহীহ বুখারী) তাই যত বেশি সম্ভব সূরা এবং কোরআনের আয়াত শুদ্ধ উচ্চারণে শেখার চেষ্টা করা উচিত।
মনে রাখবেন, কুরআনের আয়াতের উচ্চারণ অন্য ভাষায় করা সম্ভব নয় এবং অনেক উলামার মতে তা বৈধও নয়। তাই বাংলা উচ্চারণ দেখে শেখার পাশাপাশি কোনো অভিজ্ঞ কারী বা শিক্ষকের কাছে সরাসরি শিখে নেওয়া সবচেয়ে উত্তম। এতে আপনার উচ্চারণ আরও বিশুদ্ধ হবে এবং মাখরাজ (আরবি অক্ষরের সঠিক উচ্চারণ স্থান) সম্পর্কেও ধারণা স্পষ্ট হবে।
রুব্বা কারিইন লিল-কুরআনি ওয়াল-কুরআনু ইয়াল'আনূহু (رب قارئ للقرآن والقرآن يلعنه)"
- এই উক্তিটি একটি প্রসিদ্ধ বক্তব্য, তবে এটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদিস হিসেবে প্রমাণিত নয়। বেশিরভাগ ইসলামিক স্কলার ও মুহাদ্দিসগণ এটিকে দুর্বল বা ভিত্তিহীন (লা আসলা লাহু/মওযু') বলেছেন।
তবে এর অর্থটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কুরআনের বিধান লঙ্ঘনকারী তিলাওয়াতকারীর অবস্থার বর্ণনা দেয়।
উক্তিটির বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা
মূল আরবি উক্তি: رب قارئ للقرآن والقرآن يلعنه
বাংলা অনুবাদ: "অনেক কুরআন পাঠক আছে, যাদেরকে কুরআনই অভিশাপ দেয়।"
এর অর্থ ও ব্যাখ্যা:
এই উক্তিটির মূল বক্তব্য হলো, এমন অনেক মানুষ আছে যারা কুরআন তেলাওয়াত করে, কিন্তু তাদের জীবনযাপন, কর্ম বা আচরণ কুরআনের নির্দেশের পরিপন্থী। অর্থাৎ, তারা কুরআন পড়ে, কিন্তু কুরআনের আদেশ-নিষেধ মেনে চলে না। কুরআনের উপদেশাবলী উপেক্ষা করে অন্যায় ও পাপাচারে লিপ্ত থাকে।
এমতাবস্থায়, কুরআনে বর্ণিত অভিশাপের আয়াতগুলো তাদের উপরই পতিত হয়। উদাহরণস্বরূপ:
* ظالمদের (অত্যাচারীদের) প্রতি আল্লাহর লানত: কুরআন মাজিদে অনেক আয়াতে জালেমদের প্রতি আল্লাহর লানত (অভিশাপ) বর্ষিত হয়েছে। যদি কোনো কুরআন পাঠক নিজে জালেম হয়, তাহলে কুরআনের এই আয়াতগুলো তার উপরই অভিশাপ হিসেবে বর্তায়।
* মিথ্যাবাদী, পাপাচারী বা সীমালঙ্ঘনকারীদের প্রতি লানত: কুরআনের বিভিন্ন স্থানে মিথ্যাবাদী, পাপাচারী এবং যারা আল্লাহর সীমালঙ্ঘন করে তাদের প্রতি লানতের কথা বলা হয়েছে। যদি একজন কুরআন পাঠক এই ধরনের কাজকর্মে লিপ্ত থাকে, তাহলে কুরআনই তাকে অভিশাপ দেয়।
সহজভাবে বলতে গেলে, যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে কিন্তু তার নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে না, কুরআন তার জন্য সুপারিশকারী হওয়ার পরিবর্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হয়ে দাঁড়ায়। কুরআন কেবল তেলাওয়াতের জন্য আসেনি, বরং এটি জীবন পরিচালনার একটি পূর্ণাঙ্গ বিধান। তাই তেলাওয়াতের সাথে সাথে এর মর্মার্থ বোঝা এবং সে অনুযায়ী আমল করাও অত্যাবশ্যক।
ইমাম গাজ্জালী (রহ.) তার 'ইহয়াউ উলুমিদ্দীন' গ্রন্থে এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন এবং আনাস ইবনে মালিক (রা.) এর দিকে এর সম্পর্ক দেখিয়েছেন। তবে হাদিস বিশারদদের মতে, রাসূল (সা.) থেকে এর কোনো সহীহ সনদ নেই।
গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা:
এই উক্তিটি একটি শিক্ষামূলক সতর্কতা হিসেবে কাজ করে। এটি মুসলিমদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কেবল কুরআন তেলাওয়াত করাই যথেষ্ট নয়, বরং কুরআনের বাণী হৃদয়ে ধারণ করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করাই আসল উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে, কিন্তু তার নির্দেশাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে যেন কুরআনকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী বানিয়ে দেয়। যারা ফ্রি সময়ে অবিশ্বাস্য সহজ উপায়ে কোরআন উচ্চারণ শিখতে চান তারা এই লিংকে ক্লিক করে জয়েন হয়ে আপনার ফ্রি সময় বলুন। https://t.me/+M1VnElRwH5hiNjU9
https://youtu.be/-NFtgdQ7_G8?si=i9myX6P-KG5amPj7https://youtu.be/-NFtgdQ7_G8?si=i9myX6P-KG5amPj7

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন