পোস্টগুলি

ইমান ও আকিদা

 ঈমান ও আক্বীদা   ১. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তার নাম কি? "উত্তরঃ-আল্লাহ্‌। "২. প্রশ্নঃ আল্লাহর কতগুলো নাম রয়েছে? "উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলার নাম অসংখ্য-অগণিত।  (কিন্তু কিতাবে ৯৯টির কথা উল্লেখ আছে) "৩. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন? "উত্তরঃ সপ্তাকাশের উপর আরশে আযীমে।  (সূরা ত্বহাঃ ৫) "৪. প্রশ্নঃ আল্লাহর আরশ কোথায় আছে? "উত্তরঃ সাত আসমানের উপর। "৫. প্রশ্নঃ আল্লাহ কি সর্বস্থানে বিরাজমান? "উত্তরঃ না। আল্লাহ্‌ সবজায়গায় বিরাজমান নন। তিনি সপ্তকাশের উপর সুমহান আরশে সমুন্নত।  (সূরা ত্বাহাঃ ৫)। কিন্তু উনি সব দেখেন, জানেন, সবার অন্তরের সব বিষয়ে অবগত। "৬. প্রশ্নঃ আল্লাহর কাজ কি? "উত্তরঃ সৃষ্টি করা, রিযিক প্রদান, বৃষ্টি বর্ষণ, লালন-পালন করা, সাহায্য করা, জীবন-মৃত্যু প্রদান, পরিচালনা করা, সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব করা, তত্বাবধান করা ইত্যাদি। "৭. প্রশ্নঃ তাওহীদ কাকে বলে? "উত্তরঃ তাওহীদ অর্থ একত্ববাদ। পরিভাষায়ঃ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদ। "৮. প্রশ্নঃ তাওহীদ কত প্রকার? "উত্তরঃ তাওহীদ ৩ প্রকার। ...

মসজিদে নামাজ পড়ার সাওয়াব ও গুরুত্ব

ছবি
১. মসজিদে নামাজ পড়ার গুরুত্ব মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর এবং ইবাদতের জন্য সর্বোত্তম স্থান। মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করলে প্রতি কদমে নেকি পাওয়া যায় এবং গুনাহ মাফ হয়। তবে সওয়াবের মূল আধিক্য নির্ভর করে জামাতের (একত্রিত হয়ে পড়া) ওপর। * জামাতে নামাজ: একাকী পড়ার চেয়ে জামাতে নামাজ পড়লে ২৭ গুণ (কোনো বর্ণনা মতে ২৫ গুণ) বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। * মসজিদে একাকী নামাজ: যদি কেউ মসজিদে গিয়েও কোনো কারণে জামাত না পেয়ে একাকী নামাজ পড়েন, তবুও তিনি মসজিদের বরকত এবং সেখানে যাওয়ার সওয়াব পাবেন, যা ঘরে পড়ার চেয়ে উত্তম। ২. ইবাদতখানা বনাম ঘর ইবাদতখানা বলতে যদি বাড়ির নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ বা অফিসের নামাজ পড়ার জায়গাকে বোঝানো হয়, তবে এর বিধান ঘরের মতোই। * পুরুষদের জন্য: পুরুষদের জন্য পাঞ্জেগানা নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (ওয়াজিবের কাছাকাছি)। বিনা কারণে ঘরে বা ইবাদতখানায় একাকী নামাজ পড়লে জামাতের বিশাল সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়। * নারীদের জন্য: নারীদের জন্য নিজ ঘরের ভেতরের অংশে নামাজ পড়া সবচেয়ে বেশি সওয়াবের কাজ। তাদের জন্য মসজিদে যাওয়ার চেয়ে ঘরে নামাজ পড়াই উত্তম বলে হাদিসে বর্ণিত হয়...

রোজার মাসায়েল ও বিজ্ঞান

ছবি
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। রমজানের মহিমা ও আধুনিক বিজ্ঞান সম্মানিত দর্শক শ্রোতা আজ আমরা এমন এক মাসে পদার্পণ করেছি যা শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি মূলক ইবাদতের বসন্ত নয়, বরং মানবদেহের জন্য এক মহাকল্যাণকর সময়। রমজান হলো আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি এবং শারীরিক সুস্থতার এক অপূর্ব সমন্বয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: > "রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ।" (সূরা বাকারা: ১৮৫) আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ রমজানের উপবাসের কাছে ঋণী। বিশেষ করে ২০১৬ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওশুমি 'অটোফাজি' (Autophagy) আবিষ্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ার পর রোজা রাখার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। * অটোফাজি: দীর্ঘ সময় উপবাস থাকলে শরীরের সুস্থ কোষগুলো মৃত বা অসুস্থ কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে ক্যানসার ও আলঝেইমারের মতো রোগ থেকে রক্ষা করে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এখন 'ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং' (Intermittent Fasting) নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছেন, যা মূলত আমাদের রোজারই এ...

রমজানের মহিমা, রোজা ও বিজ্ঞান

ছবি
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। রমজানের মহিমা ও আধুনিক বিজ্ঞান সম্মানিত পাঠক আজ আমরা এমন এক মাসে পদার্পণ করেছি যা শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি মূলক ইবাদতের বসন্ত নয়, বরং মানবদেহের জন্য এক মহাকল্যাণকর সময়। রমজান হলো আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি এবং শারীরিক সুস্থতার এক অপূর্ব সমন্বয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: > "রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ।" (সূরা বাকারা: ১৮৫) আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ রমজানের উপবাসের কাছে ঋণী। বিশেষ করে ২০১৬ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওশুমি 'অটোফাজি' (Autophagy) আবিষ্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ার পর রোজা রাখার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। * অটোফাজি: দীর্ঘ সময় উপবাস থাকলে শরীরের সুস্থ কোষগুলো মৃত বা অসুস্থ কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে ক্যানসার ও আলঝেইমারের মতো রোগ থেকে রক্ষা করে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এখন 'ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং' (Intermittent Fasting) নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছেন, যা মূলত আমাদের রোজারই একটি ধরণ। ডিটক্...

শবে বরাত - করণীয় ও বর্জনীয়

ছবি
শবে বরাত: সহিহ সুন্নাহর আলোকে করণীয় ও বর্জনীয় আসসালামু আলাইকুম। শাবান মাস চলছে, আর আমাদের সামনেই কড়া নাড়ছে নিসফু শাবান বা শবে বরাত। এই রাতটি নিয়ে আমাদের সমাজে যেমন অনেক অতিভক্তি আছে, তেমনি আছে অনেক বিভ্রান্তিও। কিন্তু একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দেখা উচিত কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ আসলে এই রাত সম্পর্কে কী বলে। অনেক আলেম মনে করেন এই রাতের কোনো ভিত্তি নেই, তবে মুহাদ্দিসগণের গবেষণায় দেখা যায়—রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে সহিহ বা হাসান পর্যায়ের হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন,عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:‏ "إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلاَّ لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ” "আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে (নিসফু শাবান) সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং দুই শ্রেণির লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন—১. মুশরিক যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে (অথবা যারা মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ, রোজা,হজ এবং ইত্যাদি ইবাদত করে এবং যারা অন্যায়ভাবে , জুলুম করে প...

স্রষ্টার অসীমতা ও দৃশ্যমান জগতের সীমানা

ছবি
স্রষ্টার অসীমতা ও দৃশ্যমান জগতের সীমানা আমরা যা কিছু সরাসরি চোখে দেখি বা ল্যাবরেটরিতে যন্ত্র দিয়ে মেপে ফেলি, তা মূলত 'সসীম' বা সীমাবদ্ধ। আর যা সীমাবদ্ধ, তা কখনো এই মহাবিশ্বের পরম স্রষ্টা হতে পারে না। স্রষ্টা যদি সৃষ্টির ফ্রেমে বন্দি হতেন, তবে তিনি আর স্রষ্টা থাকতেন না। ১. কেন আমরা তাঁকে সরাসরি দেখি না? মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এক অসীম সত্তা। আমাদের এই নশ্বর চোখ এবং আধুনিক সসীম যন্ত্রপাতির পক্ষে সেই অসীম জ্যোতি বা ক্ষমতাকে ধারণ করা অসম্ভব। এটি স্রষ্টার সীমাবদ্ধতা নয়, বরং আমাদের ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতা। ২. অস্তিত্বের প্রমাণ ছড়িয়ে আছে সর্বত্র: একজন নিপুণ কারিগরকে না দেখেও যেমন তার তৈরি আসবাব দেখে তার অস্তিত্ব বোঝা যায়, তেমনি আসমান ও জমিনের প্রতিটি ধূলিকণা থেকে শুরু করে বিশাল মহাকাশ পর্যন্ত অগণিত নিদর্শন আমাদের সামনে রয়েছে। * নক্ষত্ররাজির নিখুঁত কক্ষপথ, * জীবনের জটিল ডিএনএ (DNA) সংকেত, * এবং আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব— এই সবই চিৎকার করে সাক্ষ্য দেয় যে, এর পেছনে একজন পরম জ্ঞানী ও কুশলী সত্তা রয়েছেন। ৩. মুক্ত মনের আহ্বান: একটি সুস্থ, স্বচ্ছ এবং অহংকারমুক্ত হৃদয় যখনই এই মহাবিশ্...

আস্তিক বনাম নাস্তিক

সোলাপুরের সেই ঐতিহাসিক বিতর্কে জাভেদ আখতারের উত্থাপন করা নাস্তিক্যবাদী প্রশ্নগুলোর বিপরীতে মুফতি শামাইল নদভী অত্যন্ত যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক উত্তর দিয়েছিলেন। নিচে প্রধান প্রশ্ন ও উত্তরগুলো তুলে ধরা হলো: ১. প্রশ্ন: স্রষ্টা যদি থাকেন, তবে তাঁকে কেন দেখা যায় না? কেন কোনো প্রমাণ নেই? জাভেদ আখতারের যুক্তি: যা দেখা যায় না বা ল্যাবরেটরিতে প্রমাণ করা যায় না, তা বিশ্বাস করা যুক্তিসঙ্গত নয়। মুফতি শামাইল নদভীর উত্তর: মুফতি সাহেব একে ‘ভুল সরঞ্জামের ব্যবহার’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন: * আপনি যদি ‘মেটাল ডিটেক্টর’ দিয়ে প্লাস্টিক খুঁজতে যান, তবে তা খুঁজে পাবেন না। এর মানে এই নয় যে প্লাস্টিক নেই; বরং এর মানে হলো আপনি ভুল সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। * স্রষ্টা কোনো ‘বস্তু’ নন যে তাঁকে বৈজ্ঞানিক ল্যাবে মাপা যাবে। তিনি এই মহাবিশ্বের ঊর্ধ্বে। আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয় এবং বুদ্ধি সীমাবদ্ধ, আর স্রষ্টা অসীম। সীমাবদ্ধ জিনিস দিয়ে অসীমকে সরাসরি ধরা সম্ভব নয়। ২. প্রশ্ন: পৃথিবীতে কেন এত দুঃখ, কষ্ট এবং শিশুদের মৃত্যু হয়? (Problem of Evil) জাভেদ আখতারের যুক্তি: স্রষ্টা যদি দয়ালু হন, তবে কেন বিশ্বে নিষ্পাপ শিশুরা মারা যায় বা মা...