পোস্টগুলি

রোজার মাসায়েল ও বিজ্ঞান

ছবি
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। রমজানের মহিমা ও আধুনিক বিজ্ঞান সম্মানিত দর্শক শ্রোতা আজ আমরা এমন এক মাসে পদার্পণ করেছি যা শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি মূলক ইবাদতের বসন্ত নয়, বরং মানবদেহের জন্য এক মহাকল্যাণকর সময়। রমজান হলো আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি এবং শারীরিক সুস্থতার এক অপূর্ব সমন্বয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: > "রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ।" (সূরা বাকারা: ১৮৫) আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ রমজানের উপবাসের কাছে ঋণী। বিশেষ করে ২০১৬ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওশুমি 'অটোফাজি' (Autophagy) আবিষ্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ার পর রোজা রাখার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। * অটোফাজি: দীর্ঘ সময় উপবাস থাকলে শরীরের সুস্থ কোষগুলো মৃত বা অসুস্থ কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে ক্যানসার ও আলঝেইমারের মতো রোগ থেকে রক্ষা করে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এখন 'ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং' (Intermittent Fasting) নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছেন, যা মূলত আমাদের রোজারই এ...

রমজানের মহিমা, রোজা ও বিজ্ঞান

ছবি
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। রমজানের মহিমা ও আধুনিক বিজ্ঞান সম্মানিত পাঠক আজ আমরা এমন এক মাসে পদার্পণ করেছি যা শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি মূলক ইবাদতের বসন্ত নয়, বরং মানবদেহের জন্য এক মহাকল্যাণকর সময়। রমজান হলো আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি এবং শারীরিক সুস্থতার এক অপূর্ব সমন্বয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: > "রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ।" (সূরা বাকারা: ১৮৫) আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ রমজানের উপবাসের কাছে ঋণী। বিশেষ করে ২০১৬ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওশুমি 'অটোফাজি' (Autophagy) আবিষ্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ার পর রোজা রাখার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। * অটোফাজি: দীর্ঘ সময় উপবাস থাকলে শরীরের সুস্থ কোষগুলো মৃত বা অসুস্থ কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে ক্যানসার ও আলঝেইমারের মতো রোগ থেকে রক্ষা করে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এখন 'ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং' (Intermittent Fasting) নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছেন, যা মূলত আমাদের রোজারই একটি ধরণ। ডিটক্...

শবে বরাত - করণীয় ও বর্জনীয়

ছবি
শবে বরাত: সহিহ সুন্নাহর আলোকে করণীয় ও বর্জনীয় আসসালামু আলাইকুম। শাবান মাস চলছে, আর আমাদের সামনেই কড়া নাড়ছে নিসফু শাবান বা শবে বরাত। এই রাতটি নিয়ে আমাদের সমাজে যেমন অনেক অতিভক্তি আছে, তেমনি আছে অনেক বিভ্রান্তিও। কিন্তু একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দেখা উচিত কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ আসলে এই রাত সম্পর্কে কী বলে। অনেক আলেম মনে করেন এই রাতের কোনো ভিত্তি নেই, তবে মুহাদ্দিসগণের গবেষণায় দেখা যায়—রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে সহিহ বা হাসান পর্যায়ের হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন,عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:‏ "إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلاَّ لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ” "আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে (নিসফু শাবান) সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং দুই শ্রেণির লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন—১. মুশরিক যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে (অথবা যারা মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ, রোজা,হজ এবং ইত্যাদি ইবাদত করে এবং যারা অন্যায়ভাবে , জুলুম করে প...

স্রষ্টার অসীমতা ও দৃশ্যমান জগতের সীমানা

ছবি
স্রষ্টার অসীমতা ও দৃশ্যমান জগতের সীমানা আমরা যা কিছু সরাসরি চোখে দেখি বা ল্যাবরেটরিতে যন্ত্র দিয়ে মেপে ফেলি, তা মূলত 'সসীম' বা সীমাবদ্ধ। আর যা সীমাবদ্ধ, তা কখনো এই মহাবিশ্বের পরম স্রষ্টা হতে পারে না। স্রষ্টা যদি সৃষ্টির ফ্রেমে বন্দি হতেন, তবে তিনি আর স্রষ্টা থাকতেন না। ১. কেন আমরা তাঁকে সরাসরি দেখি না? মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এক অসীম সত্তা। আমাদের এই নশ্বর চোখ এবং আধুনিক সসীম যন্ত্রপাতির পক্ষে সেই অসীম জ্যোতি বা ক্ষমতাকে ধারণ করা অসম্ভব। এটি স্রষ্টার সীমাবদ্ধতা নয়, বরং আমাদের ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতা। ২. অস্তিত্বের প্রমাণ ছড়িয়ে আছে সর্বত্র: একজন নিপুণ কারিগরকে না দেখেও যেমন তার তৈরি আসবাব দেখে তার অস্তিত্ব বোঝা যায়, তেমনি আসমান ও জমিনের প্রতিটি ধূলিকণা থেকে শুরু করে বিশাল মহাকাশ পর্যন্ত অগণিত নিদর্শন আমাদের সামনে রয়েছে। * নক্ষত্ররাজির নিখুঁত কক্ষপথ, * জীবনের জটিল ডিএনএ (DNA) সংকেত, * এবং আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব— এই সবই চিৎকার করে সাক্ষ্য দেয় যে, এর পেছনে একজন পরম জ্ঞানী ও কুশলী সত্তা রয়েছেন। ৩. মুক্ত মনের আহ্বান: একটি সুস্থ, স্বচ্ছ এবং অহংকারমুক্ত হৃদয় যখনই এই মহাবিশ্...

আস্তিক বনাম নাস্তিক

সোলাপুরের সেই ঐতিহাসিক বিতর্কে জাভেদ আখতারের উত্থাপন করা নাস্তিক্যবাদী প্রশ্নগুলোর বিপরীতে মুফতি শামাইল নদভী অত্যন্ত যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক উত্তর দিয়েছিলেন। নিচে প্রধান প্রশ্ন ও উত্তরগুলো তুলে ধরা হলো: ১. প্রশ্ন: স্রষ্টা যদি থাকেন, তবে তাঁকে কেন দেখা যায় না? কেন কোনো প্রমাণ নেই? জাভেদ আখতারের যুক্তি: যা দেখা যায় না বা ল্যাবরেটরিতে প্রমাণ করা যায় না, তা বিশ্বাস করা যুক্তিসঙ্গত নয়। মুফতি শামাইল নদভীর উত্তর: মুফতি সাহেব একে ‘ভুল সরঞ্জামের ব্যবহার’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন: * আপনি যদি ‘মেটাল ডিটেক্টর’ দিয়ে প্লাস্টিক খুঁজতে যান, তবে তা খুঁজে পাবেন না। এর মানে এই নয় যে প্লাস্টিক নেই; বরং এর মানে হলো আপনি ভুল সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। * স্রষ্টা কোনো ‘বস্তু’ নন যে তাঁকে বৈজ্ঞানিক ল্যাবে মাপা যাবে। তিনি এই মহাবিশ্বের ঊর্ধ্বে। আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয় এবং বুদ্ধি সীমাবদ্ধ, আর স্রষ্টা অসীম। সীমাবদ্ধ জিনিস দিয়ে অসীমকে সরাসরি ধরা সম্ভব নয়। ২. প্রশ্ন: পৃথিবীতে কেন এত দুঃখ, কষ্ট এবং শিশুদের মৃত্যু হয়? (Problem of Evil) জাভেদ আখতারের যুক্তি: স্রষ্টা যদি দয়ালু হন, তবে কেন বিশ্বে নিষ্পাপ শিশুরা মারা যায় বা মা...

ইবাদত কি শুধু নামাজ রোজায় সীমাবদ্ধ?

ছবি
وما خلقت الجن والانس الا ليعبدون অর্থাৎ: "আর আমি জ্বিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ইবাদত করবে।" (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬) এই আয়াতের গভীর তাৎপর্য এবং ইবাদতের ব্যাপক ধারণা । 🕌 মানব ও জিন সৃষ্টির উদ্দেশ্য: জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর ইবাদত প্রতিষ্ঠা পবিত্র কোরআনের উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানবজাতি ও জিনজাতির সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। এই ঘোষণাটি মুসলিম জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের দিকনির্দেশক। ১. ইবাদতের প্রচলিত ধারণা ও এর ব্যাপকতা সাধারণত, ইবাদত বলতে মানুষ নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত—এই কয়েকটি মৌলিক আনুষ্ঠানিকতাকে বুঝে থাকে। নিঃসন্দেহে এগুলো ইসলামের প্রধান ভিত্তি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে ইসলামী শরীয়তে 'ইবাদত'-এর ধারণা এর চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত ও ব্যাপক। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) ইবাদতের একটি সুন্দর ও ব্যাপক সংজ্ঞা দিয়েছেন। তাঁর মতে: "ইবাদত হলো এমন সকল কথা ও কাজের সমষ্টি, যা আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন—তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন।" এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, ইবাদ...

বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা আল্লাহর অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে

ছবি
 আচ্ছলামু আলাইকুম   প্রিয় পাঠক! আমরা জানি যে সকল বিষয় অদৃশ্য কিন্তু অনুভব করা যায়, তাদের উপর ভিত্তি করে আধুনিক বিজ্ঞান আল্লাহর অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে, যদিও বা নাস্তিকরা অমূলক দাবি (অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া মানে বিশ্বাস করা জরুরি নয়) -অথচ অস্তিত্বের উপর অনুভব হাসিল হওয়ার সাথে সাথে বিশ্বাস হাসিল জরুরি হয়ে গেছে - উপস্থাপন করে আল্লাহর সৃষ্টি মানবজাতিকে পথভ্রষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছে। অদৃশ্য জগতের অনুভব: বিশ্বাস এবং অনুভূতির সম্পর্ক আমাদের চারপাশে এমন অনেক কিছু আছে যা আমরা চোখে দেখি না, কিন্তু তাদের অস্তিত্বকে উপলব্ধি করি। এই অদৃশ্য বিষয়গুলো আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো কেবল ভৌত জগতের কিছু অংশকে শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু বাকিটা উপলব্ধি করতে হয় তাদের প্রভাবের মাধ্যমে। এই উপলব্ধিই আমাদের বিশ্বাসকে দৃঢ় করে তোলে। অদৃশ্য অথচ বাস্তব: বিজ্ঞানের চোখে বিজ্ঞান এমন কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করে যা চর্ম চোখে দেখা যায় না, কিন্তু তাদের অস্তিত্ব অনস্বীকার্য। উদাহরণস্বরূপ:  * সময়: সময়কে কোনো ভৌত বস্তু হিসেবে দেখা যায় না, কিন্তু আমরা ঘড়ির কাঁটার গতি, দিন-রাতের পরি...